ভূয়া সাংবাদিক ও ভূয়া মিডিয়াঃঃ লাগাম টানার এখনই সময়

0

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

সাংবাদিকতা করার জন্য নয়; একটা আইডি কার্ড ও দাপট দেখানোর মানসিকতা নিয়ে টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহ করে হুমকি/ধামকি   ও প্রভাব বিস্তার করছে একদল ভূয়া সাংবাদিক। বিশেষ করে মফস্বলে। অসংখ্য নিবন্ধনহীন সাংবাদিক সংগঠন।অন্তরালে যাকে তাকে সাংবাদিক   বানিয়ে তাকে দিয়ে ধান্দাবাজি কিংবা সদস্য বাড়ানোর চেস্টা।

লাগাম টেনে না ধরলে কি হতে পারে তা চোখ কান খোলা রাখলে সহজেই অনুমেয়। ভূয়া সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার বিরাম্বনা আর কত?দেশে এখন অনলাইন নিউজ পোর্টাল আর অনলাইন টিভি, রেডিও র সংখ্যা কত সে তথ্য সরকারের কাছে আছে, চলছে মনিটরিং ও যাচাই। কিছু টাকা আছে একটা পোর্টাল খুলে রাজনৈতিক/মাদক/ চাঁদাবাজি জুয়া কিংবা ইয়াবা হালাল করার জন্য সাংবাদিকতার  মুুুখোশ পড়ে অপকর্মে লিপ্ত এরা। নামে বেনামে আর জনপ্রিয় অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল আর টিভি চ্যানেল ও শো এর নাম এবং ডিজাইন নকল করে নতুন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ওয়েপসাইট চালু হয়েছে। অনেকে এখন অনলাইন নিউজ পোর্টাল/টিভি চালু করে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।  সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ও প্রেস কাউন্সিল ইতোমধ্যে  যে উদ্দ্যেগ নিয়েছেন তাতে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য হলেও,কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপন করছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

 

ফেসবুক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভিতে সাংবাদিক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণ-তরুণীসহ অনেকের সাথে  প্রতারনাও করা

হচ্ছে। কিছু টাকা দিলে যে কেউ হতে পারেন সাংবাদিক। এমনকি বার্তা সম্পাদকের মানদন্ডের অনেক নিচে থেকে কোন কোন মুদি দোকানীও হতে পারেন বার্তা সম্পাদক আবার ভূয়া পরিচয়দানকারী ভবঘুরে বেকাররাও হতে পারেন সম্পাদক। শব্দচয়ন,বাক্যগঠন কিংবা বানান রীতিনীতি সম্পর্কে যাদের কোন ধারনাই নেই।।। নেই নিয়োগের কোন মানদন্ড। গভীরে হাত দিলে প্রকাশক সহ সম্পাদক সবারই থলের বেড়াল বের হয়ে আসবে ।  সাংবাদিক নিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধে।

দেশের প্রথম শ্রেণি ও শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টালে আপলোড হওয়া নিউজের বানান, দাড়ি, কমা ঠিক রেখে ঐ নিউজ পোর্টাল/টিভির কথিত সম্পাদক, সংবাদকর্মী ও ডেস্কে যারা কাজ করেন তাদের সংবাদ লেখার ক্ষমতা না থাকলেও একটু এদিক  সেদিক করে অন্য পত্রিকার ওয়েব সাইট হতে কপি টু পেস্ট করে নিজের নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করে আসছেন।
সাংবাদিকতা করেননি  কখনও  কিংবা সংবাদ পত্রের কার্যালয়ের বারান্দায় পা পড়েনি কোনদিন অথচ অনলাইন নিউজ পোর্টাল,টিভি সম্পাদক/মালিক হয়েছেন অনেকে।আবার অনেকে কোন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা প্রিন্ট পত্রিকায় লেখালেখি না করলেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লোভে রাতারাতি সম্পাদক/মালিক হয়েছেন।
অপরদিকে অনেক টাউট বাটপার ও বখাটে ছেলেরা ফেসবুকে আইডি বা পেজ খুলে বিভিন্ন ধরণের সংবাদ ভিত্তিক সাইট তেরি করেছেন।


গড়ে তুলেছেন ভুয়া দৈনিক পত্রিকার নামে ওয়েবসাইট, অনলাইন পোর্টাল,টিভি,রেডিও ও মানবাধিকার সংস্থার মত নাম সর্বস্ব সংগঠন।
ফেসবুকে অসংখ্য আইডি ও পেইজ খোলা হয়েছে। জেলার প্রকৃত ও দক্ষ সংবাদ কর্মীদের পাঠানো নিউজ তাদের পোর্টাল থেকে কপি করে নিয়ে নিজের নামে পোস্ট করছেন এসব আইডি বা পেইজে। অনেক এলাকার নাম, সংবাদের সাথে মিল রেখে নাম দিয়ে এসব পরিচালনা করছেন।
এসব কর্মকান্ডে জেলা,উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কিছু নামধারি সংবাদকর্মীরা জড়িত। তাদের কর্মকান্ড প্রকৃত সংবাদকর্মী ও প্রবীন সাংবাদিকদের মধ্যে  বিরুপ  প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছেে। তারা কি করেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা কি, কেন সংবাদপত্র জগতে? এমন প্রশ্নও উঠছে।

এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল,টিভি চ্যানেলের নামকরে বিভিন্ন মিডিয়ায় ও ফেসবুকে আকর্ষনীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায় প্রায়ই। দেখা যায় জেলা, উপজেলা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদদাতা নিয়োগ করা হবে। ডি এস এল আর ক্যামেরা,ল্যাপটপ ও মটর বাইক ও সম্মানি দেওয়ার মত প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিটি বিজ্ঞাপনে উঠতি বয়সী তরুন তরুণীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও  দেখা যায়  প্রায়শঃই ।সরাসরি যোগাযোগ করতে নিষেধ করে মোবাইল ফোন নম্বর ও মেইল দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয় অনেক সময়।

এসব বিজ্ঞাপন দেখে  সাংবাদিক হওয়ার আশায়  যোগাযোগ করেন দেশের অসংখ্য মানুষ।
তাদের জানানো হয়, ‘আপনারা আসেন কিছু খরচাপাতি (অর্থ) আপনাদের দিতে হবে, আপনাদের সঙ্গে সঙ্গে আইডি কার্ড দেওয়া হবে’। আবার অনেকে বলেন আমারদের নাম্বারে বিকাশ করে টাকা পাঠান, আপনার ঠিকানায় আইডি কার্ড পাঠানো হবে।
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির এ উন্নয়নের সময়ে কিছু কিছু অনিবন্ধিত    অনলাইন; নামসর্বস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ করে দিন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ, পত্রিকার পোর্টাল নিয়েও তারা কথা  বলার চেষ্টা করেন।
আর যারা নিউজ পাঠাচ্ছেন তাদের কিছু নিউজ আপলোড হলেই মনে করেন, আমি তো সাংবাদিক হয়েই গেছি। আমার নিউজ যেহেতু আপলোড হয়েছে এবার আমায় ঠেকায় কেে???

আসলে তারা সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। অনেককে আবার নিয়োগ দেয়া হলেও তাদেরকে জড়ানো হচ্ছে প্রতারণা মূলক বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ডে।
অভিযোগ উঠছে, প্রতারণা আর চাঁদাবাজি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অর্থের বিনিময়ে পরিচয়পত্র প্রদান করছে সাংবাদিকতার নামের এই প্রতারক চক্রটি। দিনে দিনে বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধড়া পড়লেও থেমে নেই কথিত এসব সাংবাদিকদের তৎপরতা। অভিযোগ আছে, প্রশাসনও তাদের  প্রশ্রয় দিচ্ছেন।  হয়তো বুুুঝে আবার অনেক সময় না বুঝে। এতে প্রতিনিয়ত বিব্রত হচ্ছেন পেশাদার অনলাইন,দৈনিক পত্রিকার সংবাদিক/সম্পাদক /মালিকগন।

এ বিষয়ে জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের

স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন গনি মিয়া বাবুল           বলেন, এসব বিজ্ঞাপন দেখে তরুণ-তরুণীরা বিভ্রান্ত হয় । এই সুযোগে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যায়।

এর বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।সরকারের উচিত দ্রুত এসব অনলাইন পোর্টাল গুলো একটি পরিছন্ন নীতিমালায় নিয়ে আসা। এদিকে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি চিঠি ক্রাইম ডায়রির পক্ষ হতে সকল প্রশাসনসহ প্রেস কাউন্সিল বরাবর প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন ক্রাইম ডায়রির প্রধান উপদেষ্টা লায়ন গনি মিয়া বাবুল।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

66total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply