উত্তরন ফাউন্ডেশনঃঃ তৃত্বীয় লিঙ্গের মানুষকে মানুষ হয়ে বাঁচাতে শেখায়

0

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

উত্তরণ ফাউন্ডেশন। তৃত্বীয় লিঙ্গ কিংবা বেঁদে জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে এমন একটি সংগঠন । আর এদেরই    আয়োজনে ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হিজড়ারা।।। বাংলাদেশ  পুলিশের ডি আই জি হাবিবুর রহমান এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।  একজন অসাধারণ স্বপ্নবাজ  মানুষ।

হিজড়াদের মূল ধারায় সংযুক্ত করা ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা তার একটি স্বপ্ন।এই স্বপ্নযাত্রার বন্ধুর পথে তার সঙ্গে  দেখা হয় তিনজন হিজড়া  অনন্যা, শাম্মী ও আখির সাথে। এরপর ওদের জীবিকার জন্য ঢাকা জেলাধীন আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় তিনি নিজ অর্থায়নে স্থাপন  করেন  ‘উত্তরণ বিউটি পার্লার-১’। প্রতিষ্ঠার স্বল্প সময়ের মধ্যেই ওদের প্রানান্ত প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের কারনে পার্লারটি ব্যবসাসফল হয়ে ওঠে।ওরা স্বাবলম্বী হয়।

হ্যা যিনি এই কাজটির আঞ্জাম দিচ্ছেন তিনি আর কেউ নন।তিনি হলেন মানুষ গড়ার কারিগর খ্যাত বাংলাদেশ পুলিশের ডি আই জি হাবিবুর রহমান ।

হিজরারা এখন মূলধারায়    ফিরে আসার স্বপ্ন দেখে। যে স্বপ্নের বীজ বুনেছেন তিনি। শুরুর সেই তিন নায়িকা এখন শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন।গন্ডি পেরিয়ে এখন ভারতের মাটিতে আছেন উচ্চতর প্রশিক্ষনেে।।

ঈদকে সামনে রেখে আজ ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে ঢাকার মগবাজার এলাকায় বসবাসরত তৃতীয়লিঙ্গের প্রায় ৪০০ জনকে দেওয়া হলো ঈদ উপহার!

উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব কামরুল হাসান শায়কের সভাপতিত্বে এবং উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সমন্বকারী এম এম মাহবুব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য ‘ঈদ উপহার বিতরণ-২০১৮’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন নক্ষত্র পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জায়েদ খান। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. ওয়াজেদ শামসুন্নাহার দিশা, মেজর মনিরুজ্জামান, চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী, চিত্রনায়িকা শাহানুর এবং চিত্রনায়িকা বিপাশাসহ উত্তরণ ফাউন্ডেশনের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন কনসালট্যান্ট জনাব এম সেলিম মোল্লা।

ঈদ উপহার পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাবিবুর রহমান উপস্থিত তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদেরকে তৃতীয়লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আর সকলের মত আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেছেন। এখন আপনারাও আমদের মতই দেশের সকল আইন-কাঠামোর মধ্যে বসবাস করছেন। আপনারা চাইলেও আগের পেশা ধরে রাখার সুযোগ নেই। এখন জীবনকে পরিবর্তন করতে হবে, সম্মানজনক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা নিজেদের মধ্যে সকল বিভেদ ভুলে একসাথে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে আপনাদের জন্য সাভার, আশুলিয়া ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় ৩টি পার্লার করে দিয়েছি, উত্তরায় ফ্যাক্টরি ও চেইলার্স করে দিয়েছি, একটি জুট ফ্যাক্টরিতে ২০ জনের কাজের ব্যবস্থা করেছি, বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এবং সরকারে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি যেন আপনারাও আমাদের সকলের মত সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন।’ এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং সকলের সাথে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি জায়েদ খান বলেন, ‘আমরা আপনাদের সামনে পর্দার হিরো বা নায়ক। কিন্তু আমার কাছে বাস্তব হিরো বা নায়ক হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব হাবিবুর রহমান, যিনি সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যিনি আপনাদের মতো একটি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমার ইচ্ছা হাবিব ভাইয়ের গল্প ও চিন্তা ভাবনা নিয়ে একটি সিনেমা বানাবো যেখানে অভিনয় করবেন আপনারা।

সভাপতি কামরুল হাসান শায়ক বলেন, ‘যে মানুষটি আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দিনরাত নিজের ঘাম ঝরাচ্ছেন সেই মানুষটি অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব হাবিবুর রহমান। আপনারা তার ডাকে সাড়া দিয়ে আজ একত্রিত হয়েছেন আশাকরি আপনারা তার নির্দেশনা মোতাবেক এগিয়ে যাবেন, সমাজের মানুষকে ভাল ব্যবহার দিয়ে জয় করবেন। আপনাদের জন্য যা যা দরকার উত্তরণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তার সবই করা হবে। কিন্তু সেগুলোর জন্য আপনাদের ধৈর্য্য ও আন্তরিকতা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সমন্বকারী এম এম মাহবুব হাসান প্রধান অতিথি, সভাপতি এব বিশেষ অতিথিসহ সকল অতিথিদেরকে উপস্থিতিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং উত্তরণ ফাউন্ডেশন পরিচালিত সকল কার্যক্রমের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন!

অনুষ্ঠানের তৃতীয় লিঙ্গের/হিজড়াদের গুরু মায়েদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিতালী হিজড়া, অনন্যা হিজড়া, সজীব হিজড়া এবং রাখি হিজড়াসহ অন্যান্য নেতৃত্বস্থানীয় হিজড়াগণ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া তৃতীয়লিঙ্গের মানুষ ও বেদে সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নক্ষত্র পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’।

মানুষ গড়ার কারিগর এই  মানুষটিকে নিয়ে গণমানুষের ভালবাসার শেষ নেই । সাপ্তাহিক ক্রাইম ডায়রি,  অনলাইন দৈনিক ক্রাইমডায়রি বিডি ডটকম, অনলাইন টিভি ক্রাইমডায়রি টিভি ডটনেট, মানবাধিকার সংগঠন ভিকটিমসাপোর্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের পক্ষ হতে তাকে শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন লেখক,গবেষক,মানবাধিকার ও  গণমাধ্যমকর্মী     আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল।

ক্রাইম ডায়রি////জাতীয়//স্পেশাল

51total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply