রাজধানীতে হাসপাতাল মালিক দুই ভূয়া চিকিৎসক আটক

0

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃঃ

ভূয়া ডাক্তার নিয়ে লেখালের শেষ নেই। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বন্ধ হয়নি ভূয়াদের দৌরাত্ব। কি রাজধানী, কি মফস্বল! সবজায়গাতেই হাতুড়ে আর ভূয়াদের আনাগোনা। তিনি কোনোরকম এসএসসি পাশ। এরপর ১৩ বছর ধরে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে। দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভুয়া চিকিৎসা। দুই রোগীর জরায়ুতে অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালায় র‍্যাব। দেখা যায়, অভিযুক্ত হাসপাতালটির দুই চিকিৎসকই ভুয়া।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত হাসপাতালটি। নাম কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গতকাল বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালটির দুই ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব ১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদেরকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় হাসপাতালটি।

একই সঙ্গে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটির মালিক রাহিমা আক্তারকে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডিজি হেলথ’র পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাহিমা আক্তার। এসএসসি পাশ করে ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর নিজেকে গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। পরিচালনা করছিলেন হাসপাতালটি। সেখানকার আরেক ভুয়া চিকিৎসক এস এম আল মাহমুদ। নিজেকে এমবিবিস ও এফসিপিএস ডিএমসিএইচ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনিও।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে আরও দেখা যায়, কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই শাবানা নামে এক রোগীর জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সময়ও ছিল না কোনো কনসালটেন্ট। দুইজন ভুয়া চিকিৎসক মিলেই অপারেশন করে ফেলেন। হাসপাতালের মালিক এসএসসি পাশ রহিমাও নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেন এবং অপারেশন করেন। এছাড়া গত ১০ জুলাই সিজার করার সময় এ হাসপাতালে এক নবজাতক মারা যায়।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, দুই বছর আগেও ওই হাসপাতালটিকে জরিমানা করা হয়। তবুও বন্ধ হয়নি এসব ভূয়াদের দৌরাত্ব। উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লাভজনক এ পেশায় ভূয়ারা আরও বেশি প্রবেশ করে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যকে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম//আদালত

0total visits,0visits today

About Author

Leave A Reply