বুড়িগঙ্গা তীরে উচ্ছেদ অভিযানঃ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপর হামলা

0
শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ
প্রকৃতি ও প্রাণকে বাঁচাতে হলে নদী রক্ষা করা জরুরী।যখনই নদী রক্ষার জন্য নদীখেঁকোদের উপর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ হয় তখনই নদী খেঁকোরা দল বেঁধে চড়াও হয়।  বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরও হামলা চালিয়েছে এসব নদীখেঁকোদের একটি দল । সরেজমিন সুত্রে দেখা গেছে,   বৃহস্পতিবার পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায়  নদীখেঁকোদের উচ্ছেদ করতে গেলে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের  উপর হামলা করা হয়। এতে তিনিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটল। পরে আহত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে অন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর উচ্ছেদ অভিযান পুণরায় শুরু করা হয়।ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন   ক্রাইম ডায়রিকে বলেন,   অভিযান চলাকালে বেলা ১১টার দিকে শ্বশানঘাটের ইজারাদার ইব্রাহিম আহমেদ রিপন উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাঁধা দেন। এক পর্যায়ে রিপন তার দলবল নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচজনের গায়ে আঘাত লাগে। সরেজমিনে দেখা গেছে  , উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সংখ্যায় কম হওয়ায়  হামলাকারীদের ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।৷ তখন অতিরিক্ত পুলিশ ডাকা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক করা হয় ইজারাদার ইব্রাহিমের ছোট ভাই বাপ্পীসহ তিনজনকে। তবে পালিয়ে যান ইজারাদার। তাকে আটক করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা নদী বন্দরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এতদিন নদীর তীরে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও দখলদাররা কিছু করার সাহস পায়নি। অভিযানে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের একাধিক বহুতল ভবন, দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজলের শ্বশুরবাড়িও বাদ যায়নি। অভিযানকারী দলের ওপর হামলার কেউ সাহস করেনি। কিন্তু চতুর্থ পর্বের দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানের তৃতীয় দিনে এসে এমন ঘটনা ঘটল। পরে নতুন আরেকজন ম্যাজিষ্ট্রেট এসে অভিযান পরিচালনা করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়/আদালত

5total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply