ঔষধের দোকানে ভেজাল ও নকল ঔষধঃঃ জাতীয় সতর্কতা জরুরী

0

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

নকল ঔষধ নিয়ে নতুন করে বলার আসলে কিছুই নেই।বিগত বছর গুলোতে বহু লেখালেখি,চিৎকার ও চেচামেচি হয়েছে।। বহু অভিযান পরিচালনা করেছে  আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী । রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, ধোলাইখাল, চকবাজারসহ ঢাকা ও এর আশেপাশে আটক ও সিলগালা করা হয়েছে বহু নামী বেনামী ঔষধের নকল কারখানা ।  আটা ময়দা গুলে কিংবা লাইমস্টোন ব্যবহার করে নামীদামি ঔষধের প্যাক ডাইস ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল ও হচ্ছে ট্যাবলেট,ক্যাপসুল । আবার মানহীন ফ্যাক্টরীতে তৈরি হচ্ছে সিরাপ ও নকল যৌনউত্তেজক ঔষধ । এসব ঔষধের বেশিরভাগই বিতরন রুট মিটফোর্ড সহ নানা নাম জানা ও অজানা মার্কেটিং কোম্পানি ও দালাল।।  সারাদেশে বহু ঔষধের দোকানদার  বিশেষ করে মফস্বলের পাইকারি ঔষধ বিক্রেতা  সরাসরি ও বিভিন্ন মাধ্যমে মিটফোর্ড হতে বেশিলাভের আশায় এসব ঔষধ  বিক্রির উদ্দেশ্যে  সংগ্রহ করে।।  এভাবেই মূলতঃ নকল ঔষধ সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ।    বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ফার্মেসি নকল ঔষধ কেনাবেচায় জড়িত ।   

  এগুলোতে প্রতিনিয়তঃ কোটি কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংগ্রহ করে এর একটি তালিকা তৈরি করা। এরপর নির্দিষ্ট দিনে তা ধ্বংস করে এই রিপোর্ট ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দিতে হয়। কিন্তু উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকরা কখনই এ প্রতিবেদন ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দেন না। অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা কিংবা এর কোনো তালিকা কখনই ঔষধ প্রশাসনে জমা পড়েনি বলে  সাংবাদিকদের নিকট ইঙ্গিতে  স্বীকার করেন। সারা দেশে ঔষধ প্রশাসনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ ফার্মেসি সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। বৈধ ঔষধের দোকানের সংখ্যার চেয়ে অবৈধ ফার্মেসির সংখ্যা বেশি। এদের দোকানের যেসকল ঔষধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয় সেগুলোর কি হাল তা জাতির নিকট অজানা । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগুলো নিয়ে নানা সময়ে জরিপ চালিয়েছে। জরিপে সরকারি প্রতিষ্ঠান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী,    রাজধানীর শতকরা ৯০ ভাগ ঔষধের দোকানে   মেয়াদ ছাড়া  ঔষধ রয়েছে। স্পর্শকাতর ও ভীতিজনক এ তথ্য প্রকাশিত হলে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আদালতে রিট হয়। আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ তুলে ফেলার নির্দেশ দেয়। এরপরই টনক নড়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের। তারা তৎপর হয়ে ওঠে। তৎপরতার ফলশ্রুতিতে, আলোচিত এ বিষয়টি নিয়ে মহাখালী ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক ও কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরত নেয়া না নেয়া নিয়ে উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতাদের বাগবিতন্ডা হয়। কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ঔষধের মেয়াদ ফুরানোর আগেই ফার্মেসির মালিকরা কোম্পানির কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফিরিয়ে দিয়ে নতুন ঔষধ  দেয়ার কথা সব সময় বলে আসছেন। কিন্তু ঔষধ ফিরিয়ে নেয়া কিংবা নতুন দেয়া কোনোটাই তারা করেন না। অন্যদিকে উৎপাদনকারী ঔষধ  প্রতিষ্ঠান ও ঔষধ আমদানিকারকরা বলেন, অতিরিক্ত মুনাফা ও কমিশনের লোভে ফার্মেসিগুলো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঔষধ  সংরক্ষণ  করে  থাকে।  বাস্তবতার নিরিখে একটা অভিযোগ খুবই সত্য প্রায় ঔষধের দোকানেই থাকা পিছনের  গোডাউনে গোপনে লেজার কোডিং কিংবা থিনার দিয়ে ঘষে সিল তুলে নতুন সিল কিংবা ছোট্ট পিনকোডিং দিয়ে নতুন করে ডিট বসিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পুনারায় বিক্রি করা হয়। আবার কোথায়ও কোথায়ও সুযোগ বুঝে গ্রাহকের হাতে গজিয়ে দেয়া হয় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ঔষধ। এ ব্যাপারে কঠোরতা না থাকায় খুব সহজেই মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।

তাছাড়া বেশিরভাগ  সাধারণ মানুষ ঔষধের দোকানে ঢুকে কোন উচ্চবাচ্য ছাড়াই ঔষধ কিনে থাকেন।  আবার অনেক জায়গায় কথা বলার সুযোগও পাওয়া যায়না। হয় প্রচন্ড ভীর নয়তো দোকানীর কড়া মেজাজ। সাধারণ মানুষদের এরা এই যাদুতে ঠকিয়ে দেয় এরা।             এসব বিষয় নিয়ে  কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভরা বারবার নিষেধ করলেও তারা মানেন না।  বরং বেশি কথা বললে তারা অর্ডার ক্যান্সেলের ভয়ে তারা এখন আর এগুলো বলেন ও না   । এ কারণে ঔষধ  ফিরিয়ে নেয়া অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তবে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ  পৃথক স্থানে সরিয়ে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে ফেলার পরামর্শ সব সময় দেন বলে কোম্পানিগুলোর বিশ্বস্ত প্রতিনিধিসুত্রে জানা  গেছে।

তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ফার্মেসিতে ওষুধের মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে সেগুলো পৃথকভাবে রেখে সেখানে ‘বিক্রয়ের জন্য নয়’ লিখে রাখতে হবে। পরবর্তীতে তা কোম্পানিকে ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেন, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর সব সময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযানকালে চারশ মামলা হয়েছে এবং ৮১ লাখের বেশি টাকা জরিমানা হয়েছে। এ সময় প্রায় ২৩ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ও পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। তবুও থেমে নেই নকল ু ভেজাল। মিটফোর্ড হতে যদি আসলের মত করেই নকল চলে আসে তবে কি উপায়??? নকল  কারখানা কিংবা নকল সিল এগুলো ঠেকাতে হলে নৈতিকতা তৈরি হতে হবে জাতীয়ভাবে।  সচেতনতা তৈরি করতে হবে শিক্ষিত মূর্খ সবার মাঝে।  তারিখ দেখে পণ্য ক্রয় কিংবা পরিচিত ব্র্যান্ডের ঔষধ ক্রয়ের প্রতি নজর দেয়ার পাশাপাশি চোখকান খোলা রাখলে প্রতারণা রোধ করা সম্ভব হবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//স্বাস্থ্য              

77total visits,2visits today

About Author

Leave A Reply