দুদকের পরিচালক বাসির সাময়িক বরখাস্তঃ “নীতির বিষয়ে কোন ছাড় নয়” প্রশংসিত

0

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

নীতির বিষয়ে কোন ছাড় নয় এমন নীতিতেই এগিয়ে চলছে দুদক।। দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক একজন দুর্দান্ত সাহসীকতার মানুষ। সমানতালে যেমন কর্মকর্তাদের পরিচালনা করছেন ঠিক একই ভাবে অব্যহতভাবে সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে সারা ফেলেছেন ।  কমিয়ে এনেছেন দুর্নীতির মাত্রা।। এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল করতে গিয়ে একটুও ত্রুটি যদি কোন কর্মকর্তা করেন তবে কোন ছাড় নয় নীতিতে অটল পুরো টিম।

সম্প্রতি,  অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছে তথ্য ফাঁস করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। আর এতেই দুদকের নীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় । সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা এতে দারুন সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।           

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানের তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করায় চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘুষ লেনদের অভিযোগের বিষয়ে আলাদা একটি বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।’

ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে তার অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এনামুল বাসির তথ্য জানানোর মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত বছর নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে। এরপর তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির। তবে তদন্ত চলাকালেই প্রাপ্ত তথ্য অভিযুক্তের কাছে চালান করে দিয়ে তাকে ভয়-ভীতি দেখানোর মাধ্যমে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন খন্দকার এনামুল বাসির।

চুক্তি ছিল টাকার বিনিময়ে মিজানুর রহমানকে অব্যাহতি দেবেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ লেনদেনের এই ঘটনা ফাঁস করে দুদকের কাছে এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে সম্প্রতি নালিশ করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার অভিযোগকে আমলে নিয়ে এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দুর্নীতি দমনকারী সংস্থাটি। যদিও দুদক পরিচালক এনামুল বাসির অভিযোগটি অস্বীকার করেন। এরপর গতকাল রবিবার (৯ জুন) বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আজ এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিল দুদক। দুদকের মহাপরিচালক ইকবাল মাহমুদের এই সিদ্ধান্ত পুরো জাতীর প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।   দুদকের কর্মকাণ্ডের সততার বিষয়ে নীতির বিষয়েে কোন ছাড় নয় এমন নীতি কর্মকর্তাদেরও সততার সাথে কাজ করতে যেমন উৎসাহিত করবে ঠিক তেমনি ডি আইজি    মিজানের মুখোশ খুলে দেয়ার সাহস  জনগনকেও সাহসিকতার সাথে সত্য উচ্চারনের সাহস যোগাবে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারনা।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন   শৃঙ্খলা

111total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply