কিডনি সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পস এর গোলটেবিল বৈঠক

0

ডেস্ক  র‌িপ‌োটঃ

মানব জীবনে  ক‌িডনির  ভুম‌িকা  অপর‌িসীম। অসুস্থ কিডন‌ি ন‌িয়ে বেঁচে  থাকা একটা  জট‌িল  বিষয়। কিডনি রোগের ব্যাপক প্রকোপ, এ রোগের মারাত্বক পরিনতি, অতিরিক্ত চিকিৎসার খরচ এবং সিংহভাগ কিডনি বিকল রোগীদের অর্থাভাবে প্রায় বিনা চিকিৎসায় করুণ মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে গতকাল সেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্পস আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠক  অনুষ্ঠ‌িত  হয়। সেখানে  বক্তারা সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারী/বেসরকারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান গুলোর সমন্বিত ও পরিকল্পিত প্রয়াসের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন ।


বক্তারা বলেন, ধনি-গরীব কিংবা সুবিধা বঞ্চিত শ্রেনী নির্বিশেষে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সর্বস্তরের কিডনি রোগীদের চিকিৎসা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করনের অঙ্গিকার এবং বাস্তবায়নের সর্বাত্বক প্রচেষ্টা নিতে হবে।
‘‘বিশ্ব কিডনি দিবস ২০১৯’’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজীত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিডনি বিষয়ক বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইট (ক্যাম্পস), ০৯ মার্চ (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাইঞ্জ এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, অধ্যাপক ডাঃ হারুন অর রশিদ, সভাপতি, কিডনি ফাউন্ডেশন, অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল আলম, সভাপতি, বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন, জনাব মোঃ সাইফুল্লাহিল আজম, যুগ্নসচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়, মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মেজর জেনারেল অধ্যাপক ডাঃ এইচ আর হারুন, প্রিন্সিপাল, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টিম, মোঃ নিরব হোসেন, চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং মডেল প্রমুখ।

ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং বিআরবি হসপিটালস এর কিডনি বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট, অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ এ গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালন করেন এবং তিনি কিডনি রোগ এর প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং কিডনি রোগ চিকিৎসায় সবার জন্য সমান সুযোগ এ বিষয়ের উপায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

কিডনি ফাউন্ডেশন এর চেয়াম্যান অধ্যাপক ডাঃ হারুন উর রশিদ বলেন, উন্নত দেশে মোট কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের ২০-২৫ ভাগ নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে হয়। অথচ বাংলাদেশে শত ভাগ শুধুমাত্র নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে ডোনার হওয়ার আইন রয়েছে যা পরিবর্তন হওয়া দরকার। দূঘর্টনায় বা অকালে এবং রোগ-শোকে মূত্যু বরণ করীদের কিডনি গুলো সংগ্রহ করে কিডনি বিকল রোগীদের সংযোজন করে দিতে পারলে কিডনি চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হবে। এখন বছরে ২০০ থেকে ২৫০ ট্রান্সেসপ্লান্ট হয় অথচো মৃত ব্যাক্তিদের কিডনি সংগ্রহকরে তা জিবীত রোগীদের সংযোজন করলে ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার ট্রান্সেসপ্লান্ট করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল আলম বলেন ক্যাম্পস কিডনি রোগ প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে দেশে ও বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বিশে^ ৮৫০ মিলিয়ন লোক কিডনি রোগী ডঐঙ এর লাইন আপে বাংলাদেশ কিডনি রোগীর প্রাদূর্ভাবে ১১৩ তম পর্যয়ে রয়েছে। কিডনি সমস্যা আজ দেশে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব রাখছে। এর পেছনে এ্যাকসেস টু ট্রিটমেন্ট বড় কারণ। তিনি আরো বলেন, সরকার এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে আন্তরিক কারণ ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ে নির্দেষনা আছে প্রত্যেকটি সরকারী হাসপাতালে কিডনি বেড স্থাপন করার।
জাতীয় ক্রিকেট টিমের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, আমাদের নেত্বস্থানীয় লোক, শিক্ষক, ইমাম শ্রেনীর প্রতিনিধিবৃন্ধ সচেতনতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
চলচিত্র অভিনেতা নিরব হোসেন বলেন, কিডনি রোগের পেছনে ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেশার মূল কারণ তাই মূলকেই আগে প্রাধান্য দিতে হবে যাতে না হয়। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পস এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ কিডনি রোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এতে সর্বমহল থেকে সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসা দরকার।
ডাঃ এম এ সামাদ তার মূল প্রবন্ধে বলেন, পৃথিবী ব্যাপি কিডনি রোগের প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশে ২ কোটিরও অধিক লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল বিধায় এদেশের শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন থেকে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। পক্ষান্তরে, একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা।
তিনি সুস্থ্য জীবনধারা চর্চার উপর বেশী গুরুত্বদেন। নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা, ধুমপান না করা, পরিমিত সুসম খাবার, কাঁচা লবণ পরিহার করার তাগিদ দেন।
তিনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের Ľষধ গরীব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রদানের দাবি জানান সরকারে কাছে। কিডনি বিকলের চিকিৎসা যেহেতু অনেক ব্যায়বহুল তাই এর চিকিৎসা ব্যায় নির্বাহে জন্য গরীবদের ভূর্তুকীসহ সবাইকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রতি জোর আবেদন জানান।
এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা অভিমত ব্যাক্ত করেন যে, চিকিৎসা করে নয় বরং প্রতিরোধ করেই এ রোগের প্রাদূর্ভাব প্রশমন করতে হবে আর এ জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।
এ ছাড়াও গোল টেবিল বৈঠকে দেশের সরকারী পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদসহ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ক্রাইম  ডায়র‌ি// স্বাস্থ্য

132total visits,2visits today

About Author

Leave A Reply