আজ পবিত্র আশুরাঃ মনে করিয়ে দেয় কারবালার করুণ কান্নার ইতিহাস

0

মোহাম্মদ মাসউদুল হকঃ


পবিত্র মহররম মাস এর ১০ তারিখ। এদিন পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল ধ্বংসও হবে এই দিনে। তাছাড়া এ মহররম মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের দিন। হিজরি সাল অনুসারে ১০ মহররমকে আশুরা বলা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে আজকের দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। ঘটনাবহুল এই দিনে বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত কারবালা প্রান্তরে মুয়াবিয়ার হাতে শহীদ হন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.)। তার মৃত্যুর দিনটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মুসলমানরা। সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে আশুরা পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন রাজধানীতে বসবাসরত শিয়া মুসলমানদের পবিত্র আশুরা পালনের প্রস্তুতি দেখতে শনিবার পুরান ঢাকার হোসনি দালান পরিদর্শন করেন। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে ইসলামের সুমহান আদর্শের পতাকা সমুন্নত রাখতে ১০ দিন অবরুদ্ধ থেকে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। কিন্তু তবুও মদ্যপ, ব্যভিচারী ও বেনামাজি ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা করে তার হাতে বাইয়াত হওয়ার অন্যায় দাবির কাছে নতি স্বীকার করেননি। এভাবেই তিনি উম্মতে মোহাম্মাদীর সামনে কোনো ধরনের অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের কাছে নতি স্বীকার না করার দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে যান। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, ১ মহররম বর্তমান ইরাকের কুফা নগরীর কাছে ফোরাত নদের তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ইমান হোসাইন। নবীর আদরের নাতির পরিবার-পরিজন ও সাথীদের জন্য ফোরাতের পানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদের নিয়োজিত বাহিনীর প্রধান সাদ ইবনে ওমর ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা করে তার হাতে বাইয়াত গ্রহণের জন্য ইমাম হোসাইনের ওপর চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি ইসলামের আদর্শ রক্ষার স্বার্থে ইয়াজিদকে ইসলামের খলিফা ঘোষণা ও তার ইমামত স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। ইয়াজিদের বাইয়াত মানতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে নবী দৌহিত্রকে হত্যা করা হয়।


মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন এ দিনেই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত বা পৃথিবী ধ্বংস হবে। বেহেস্ত থেকে মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে আগমনের ঘটনা ঘটে এই দিনেই। ৩০০ বছর প্রার্থনার পর এই দিনেই তারা মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন। আর এই দিনেই আরাফার ময়দানে পুনরায় সাক্ষাৎ লাভ ঘটে তাদের।

এছাড়া, বিশেষ করে ইমাম হোসেনের মৃত্যুর প্রতীকী শোক পালন করতে প্রতিবছর তাজিয়া মিছিল বের করে ইমামবাড়াগুলো। রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয় পুরান ঢাকায় হোসেনি দালানে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সেখান থেকে বের করা হয় তাজিয়া মিছিল। রোববার সকালে বিশাল একটি তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। হাজারো মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়। একই সময়ে মোহাম্মদপুর থেকে একটি তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। মিছিলে এবার ছুরির বদলে হাত দিয়ে বুক চাপড়িয়ে মাতম করতে দেখা যায়।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ৯ ও ১০ মহররম দুই দিন রোজা পালনসহ নফল ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন।

এ দিবসটি উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকণ্যা শেখ হাসিনা ও মাননীয় রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
ক্রাইম ডায়রি/জাতীয়

346total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply