জনপ্রতিনিধির মুখোমুখি : কমলগঞ্জ উপজেলার ২নং পতনঊষার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার

0

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ

12669533_1208483735847488_6249570179725624522_nসমাজসেবক শিক্ষানুরাগী, গ্রাম্য সালিশ বিচারের প্রাণ পুরুষ, দাতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুন নূর মাস্টারের ছেলেরা  তাদের  স্ব স্ব  অবস্থানে থেকে বাবার নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনির ২য় ছেলে উদীয়মান তরুণ সমাজসেবক পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১, পতনঊষার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য রিপন ইসলাম ময়নুল। একজন উদীয়মান তরুন সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের চোখের সান্নিধ্য নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে যুব সমাজ ও অত্র এলাকার সকল স্তরের মানুষের মুখে মুখে। পল্লী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় কমলকুঁড়ি পত্রিকার পক্ষ থেকে পতনঊষার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রিপন ইসলাম ময়নুলের সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকার নিয়েছেন প্রতিনিধি এনামূল হোসেন। তিনি রিপন ইসলাম ময়নুলের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলেছেন পতনঊষার ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের সাথে। নিন্মে তা তুলে ধরা হলো:
11665670_851709564908437_1674061131034110381_n
কমলকুঁড়ি: আপনি কেমন আছেন ?
প্যানেল চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল:  আসসালামু আলাইকুম। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি বেশ ভালো আছি।
74
কুঁড়ি: মাঠ পর্যায়ে আজ আপনার সাথে আপনার সমাজসেবা, আপনাদের আব্দুন নূর-নূর জাহান চৌধুরী কল্যান ট্রাস্ট এর কার্যক্রম একজন প্রতিনিধি হিসেবে অত্র এলাকায় আপনার ভূমিকা- প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করতে চাই। পাশা পাশি আপনার সম্পর্কে আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কে এলাকার সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের কাজ থেকে জানতে চাইব ?
রিপন ইসলাম ময়নুল:  আমি আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি, এভাবে  মিডিয়ার লোকদের সাথে কখনো কথা বলা হইনি। আমি চেষ্টা করব আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। দেখুন, স্থানীয় পর্যায়ে  উন্নয়ন কার্যক্রমের  মধ্যে যদি স্বছতা ও  জবাবদিহিতা নিশ্চিত না থাকে তাহলে উন্নয়ন সব সময়ই ব্যাহত হয় -এটা নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী বলে আমি মনে করি। আপনারা যারা সাংবাদিকতা করেন এ ব্যাপারে আপনারা একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একেবারে স্থানীয় পর্যায়ের স্থানীয় উন্নয়ন বাস্তায়নের একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো, যেখানে চেয়ারম্যান সাহেবরা নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের সমন্নয়ে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যমান এই জন্য যে, এই প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে থেকে আমি আমার নির্বাচনী এলাকা তথা এই ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারছি। জন প্রতিনিধি হিসাবে বা প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে আমার ভূমিকা, দায়িত্ব বোধ, সার্বিক মূল্যায়ন এই এলাকার জনগনই করতে পারবে। আমি আমার দায়িত্ব পালনে শুরু থেকেই সচেষ্ট থাকার চেষ্টা করছি। আমার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের সাথে আমার নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আপনি কথা বলবেন, আমার সম্পর্কে জানতে চাইবেন-এটাই হচ্ছে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা এবং নিজেক সংশোধনের একটি প্রক্রিয়া যা আমি মনে করি, বিশ্বাস করি এবং ইতিপূর্বে আপনাকে বলেছিলাম। এ থেকে আমি জানতে পারব আমার এলাকার মানুষ, জনসাধারণ আমাকে নিয়ে কি ভাবছে? আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আপনি কথা বলুন এবং জানুন ! আমি মানুষের কল্যাণে একটি আত্ব বিশাস নিয়ে কাজ করি, কাজ করতে ভালবাসি। বৃহত্তর বৃন্দাবনপুর একটি বড় এলাকা এই এলাকার সামাজিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য আছে, আমি সহ এই এলাকার যুব সমাজের সামাজিক নৈতিক দায়িত্ব অত্র এলাকার ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যা  এই এলাকার যুব সমাজ বার বার-ই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। আপনি আমাকে আমাদের আব্দুন নূর-নূরজাহান চৌধুরী কল্যান ট্রাস্ট এর কার্যক্রম জানতে চেয়েছেন ? আমরা আব্দুর নূর-নূরজাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্ট এর মাধ্যমে গত ১৫ বছর যাবৎ আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় আর্থিক অনুদান, দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, স্কুল ড্রেস বিতরণ ও পূজা পার্বনে আর্থিক অনুদান, শীতার্তদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। প্রতি বছর এসএসসি, এইচএসসি পাশ ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সংবর্ধনা প্রদান ও উপজেলার সকল মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা বৃত্তি পরীক্ষা ও আর্থিক পুরষ্কার এবং দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রদানে সহায়তা করে আসছি । সবার জন্য স্বাস্থ্য সম্মত পয়নিষ্কাষন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে ট্রাষ্টের মাধ্যমে শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত পয়নিষ্কাষন ব্যবস্থার আওতায় আমরা নিয়ে এসেছি । তা ছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও প্রতিবছর বক্ষৃরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহ আরো অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখছি।
20
কুঁড়ি: আপনি পূর্বে কোনো নিবার্চনে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল: জ্বি , আমি পতনঊষার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে বেশ আগে বিপুল ভোটে  নির্বাচিত হয়েছিলাম। আর এটাই  ছিল আমার প্রথম নির্বাচন।  আমার প্রতিদ্বন্ধিরা প্রচারণা চালিয়েছিল আমার বয়স নাকি কম, আরো কত কিছু। পতনঊষার বণিক সমিতির নির্বাচনে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় যা অনেক বড় নির্বাচনেও করতে হয় না। আমি কিন্তু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম।

কুঁড়ি : জন প্রতিনিধি হবেন চিন্তা কোথায় পেলেন ?
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল:  আমি আমার পরিষদের সর্বকনিষ্ট মেম্বার, আমাকে সবাই পছন্দ করেন, আমি ও সবাইকে যথাযথ সম্মান করি, করার চেষ্ট করি, আমি যেখানে বাঁধার সম্মুখীন হই, সাথে সাথেই সকলের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করি। আমাদের পরিষদের সকলের মধ্যে একটা আন্তরিকতা বোধ আছে। কোথায় থেকে জন প্রতিনিধি হওয়ার চিন্তা এলো এটা বলা খুবই মুশকিল, তবে আমার মনে পড়ে আমার এলাকার যুব সমাজ তারা আমাকে এই এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় আমাকে নিয়ে তারা মিটিং মিছিল শুরু করে। আমি তাদের বললাম আপনারা তো ইচ্ছে করলেই আমাকে জনপ্রতিনিধি বানাতে পারবেন না, আপনারা কি এই এলাকার প্রবীণ মুরব্বিদের সাথে কথা বলেছেন ? তারা আমাকে বললো সব কিছু ঠিক আছে মুরব্বিরা একমত। আপনার আব্বার সাথে আপনাকে নিয়ে আমরা সবাই দেখা করে উনার অনুমতি নিয়েই নির্বাচনের কাজ শুরু করে দিব। আমার মনে আছে সেই দিনের কথা সবাই আমাদের বাড়িতে জড়ো হলেন- আমার বাবা এসে   জিজ্ঞেস করলেন বিষয় কিতা কওউকা! মুরব্বিদের মধ্যে থেকে একজন বললেন আমরা আপনার ময়নুল-কে (রিপন) কে আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হিসাবে খাড়া করতাম চাইরাম। আব্বা বললেন কোন ময়নুল? আমি পাশের রুমে ছিলাম, ভাবছিলাম পিছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে যাই। তিনি একটু একটু মৃদু হেসে বললেন সে তো কথাই  বলতে পারে না! মানুষের সমস্যা কিভাবে সমাধান করবে? আপনারা তারে কউকা  মানুষের সাথে মিলে মিশে কাজ করার জন্য, আগামীতে যখন বয়স হবে তখন আমরা চিন্তা ভাবনা করি দেখব। তখন একজন মুরব্বী বললেন মাস্টার সাব- আপনার ছেলে শুধু আপনার সামনে কথা বলতে পারেনা, আমরার এলাকার সকল মানুষের সাথে তার অনেক সু-সম্পর্ক। তিনি বললেন ইতা কিতা কওবা! এভাবেই মুরব্বীদের অনুরোধে আমার বাবার অনুমতি সাক্ষেপে নির্বাচন করা। পোস্টারিং, মাইকিং খরচ ছাড়া ভোট না কিনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিপুল ভোটে জয় লাভ করি। আমি কৃতজ্ঞ আমার এলাকার যুব সমাজ ও প্রবীণ মুরব্বিদের কাছে। এ ভাবেই একটা দায়িত্ব বোধ থেকেই সমাজসেবায় সম্পৃক্ত -এবং কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও আপনি হয়ত জানেন আমার বাবা একটা সুদীর্ঘ সময় ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা প্রসার, সালিশ বিচার,  সহ সামাজিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিজকে সম্পৃক্ত রেখেছেন – যা আজ অবধি অব্যাহত। বাবার নীতি আদর্শ এ অবিচল থেকে আমি সহ আমার পরিবারের সব সদস্য মানুষের কল্যাণ ভালো কাজ, সমাজে অন্যায় অবিচার বিরুদ্ধে রুখে  দাড়ানো, সামর্থ অনুযায়ী দ:স্থদের সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখা –এই বিষয় গুলোতে আমরা পরিবারের সকলি এক ও অবিচল।

কুঁড়ি : প্যানেল চেয়ারম্যান কিভাবে হলেন একটু বলেন ?
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল: সেটাও হয়েছিল নির্বাচনের মাধ্যমে। চেয়ারম্যান সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সবাই বসেছিলাম প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে। আমরা সবাই যখন প্যানেল চেয়ারম্যান হতে চাই তখন আর আলাপ আলোচনার মাধমে মনোনয়ন সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরে নির্বাচিত সকল সদস্যের উপস্থিতিতে ভোট যুদ্ধ হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সর্ব কনিষ্ট মেম্বার হিসাবে আমি সেদিন সাহস করে প্রার্থী হই এবং বিজয় লাভ করে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।

কুঁড়ি : আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন ? ইতিমধ্যে কি কি কাজ করেছেন একটু বলবেন ?
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল : আমি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব সময়ই মাথায় রেখেছি নির্বাচন পূর্ব আমার প্রতিশ্রুতি কি ছিল ? আমি কথা ও কাজের মধ্যে শুধু সমন্বয় করেই কাজ করিনি -চেষ্টা করেছি বেশী বেশী করার জন্য। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে যদি আপনি লক্ষ করেন তাহলে আপনি দেখবেন এক এক করে সবগুলো প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন করেছি। আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রামের মৌলিক সমস্যা গুলো প্রথমে চিহ্নত করে তার সমাধানকল্পে কাজ করেছি। নজর কাড়ার মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পেরেছি যা এলাকার মানুষের মুখে মুখে। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললেই আপনি জানতে পারবেন। আপনি কথা বলে দেখেন আমার এলাকার  জনগনই আপনাকে বলে দিবে অনেক কিছু  করেছি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাজ তুলে ধরছি। রাস্তা ঘাট মেরামত সংস্কার, পুণ:নির্মাণ -নতুন রাস্তা, ইট সলিং, রাস্তা পাকা করণ, কৃষি কাজের সুবিধার জন্য হাওর কেন্দ্র স্থল পর্যন্ত রাস্তা বৃদ্ধিকরণ। বেলনি মাঠের আংশিক মেরামত, বয়স্ক ভাতা, দরিদ্র সহায়তা ভাতা শতভাগ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেয়ার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও যুব সমাজকে সমাজ উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়ে তাদের নিয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছি। মসজিদ, মন্দির শিক্ষা প্রতিষ্টানে আমার নেতা  জননেতা সাবেক চিফ হুইপের বিশেষ বরাদ্ধ থেকে যা পেয়েছি তা নীতি ও নৈতিকতার মধ্যে অটুট থেকে যথাযথ ভাবে মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। এ ছাড়া আব্দুন নূর-নূর জাহান কল্যান ট্রাস্ট এর মাধ্যমে আমরা অনেক মানবিক কার্যক্রম কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে করে আসছি। শিক্ষা উৎসাহ সংবর্ধনা, শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি সহায়তা, বৃক্ষরোপন কর্মসূচী, ইসলামিক শিক্ষা কর্মসূচি, শতভাগ স্যানিটেশন কর্মসূচী, দরিদ্রদের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচলনা করে আসছি -যা করে আমরা আনন্দ পাই।

কুঁড়ি: আপনার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম  সম্পর্কে কি কিছু বলবেন।
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল : আপনাকে ধন্যবাদ। জননেত্রী ও আমাদের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।আমি আয়ামিলিগের একজন কমী। “আমার নেতা হচ্ছেন  এই  এলাকার  মাটি ও মানুষের   নেতা-যিনি  একে ধারে  একজন  শিক্ষক, সমাজসেবক  শিক্ষানুরাগী  দাতা বীরমুক্তিযুদ্ধা। কমলগঞ্জ  শ্রীমঙ্গল নির্বাচনী  এলাকার  ৫ বারের  নির্বাচিত সংসদ  সদস্য।  মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী  সভাপতি ও সাবেক  সফল  চিফ  হুইপ  আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ মোঃ  আব্দুস শহীদ এমপি। যিনি ইতিমধ্যে নিজেকে একজন  জননন্দিত  জননেতা  হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম  হয়েছেন-   যা  উনার  উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যেই  প্রমান করেছেন –  তিনির যোগ্য নেতৃত্বে আমরা কাজ করি-করে যাচ্ছি। আমাদের এ মহান নেতার বিশেষ বরাদ্ধ যথাযত সুযোগ সুবিধা উপকার সাধারণ ছিন্নমূল মানুসের  হাতে  পৌঁছে দিচ্ছি, কাজ করছি , মানুষ উপকৃত হচ্ছে। এই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্টান মসজিদ মন্দির গীর্জা সমাজ কল্যান  সংগঠনে তিনির সাহায্য -সহযোগিতা প্রবাহমান-বিশাল । এই উন্নয়ন উগ্রযাত্রাকে  নিশ্চিত  করতে আমাদের-কে দেশপ্রেম মানবপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে, মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কাজ  করতে হবে দায়িত্ব বোধ থেকে। বিশেষ করে তিনির যোগ্য নেতৃত্বে যে উন্নয়ন ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে তা মাইল ফলক, ঐতিহাসিক । আমার ইউনিয়নে যে পরিমান উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে তার জন্য উনার কাছে আমি  ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং উনার সুস্বাস্থ্য কামনা  করছি ।  বাড়িতে বাড়িতে রাস্তা পাকা হচ্ছে ,বিদ্যুৎ লাইন  সংযোগ অনেকটা শেষ হবার পথে। সোলার বিদ্যুত  দরিদ্রদের মধ্যে  বিতরণ, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রবাহমান এ ছাড়া ও শত শত উন্নয়ন কর্ম কান্ড  কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলে হয়েছে যা নজর কাড়ার মতো। আমি একজন কর্মী হিসেবে সবাইকে সাবেক চিফ হুইপের যোগ্য নেতৃত্বে অবিচিল থেকে কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছি যা উন্নয়ন উগ্রযাত্রাকে অব্যাহত করবে আপনাদের কথা দিচ্ছি।

কুঁড়ি : হাটে ঘাটে মাঠে ময়দানে শোনা যাচ্ছে আপনি আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন ?
চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল : জ্বি আপনি ঠিকই শুনেছেন। এটা তো আমার এলাকার মানুষের মুখে মুখে। ইনশাল্লাহ আমি নির্বাচন করবো! কারণ আমার এলাকার মানুষের ভালবাসা আন্তরিকতা আমার প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস সব সময়ই আমাকে প্রেরণা দেয়। দেখেন, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনি কিভাবে আপনার জনসাধারণের ভালোবাসাকে প্রত্যাখান করবেন? তবে কি নির্বাচন করবো তা জনসাধারণ-ই নির্ধারণ করবে! সময়ই বলে দিবে- তাড়া হুড়ার কিছুই নেই।
রিপন ইসলাম ময়নুল সম্পর্কে  এলাকার সমাজিক সংস্কৃতিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আমার ধারণা একটু বদলে গেছে। সমাজসেবক ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা ডা: বনমালী দাস বলেন, ময়নুল আমার অনেক স্নেহের। সে একটা ভালো ছেলে। বাবার নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করছে। ইতিমধ্যে সে মানুষের মন জয় করে ফেলেছে। এলাকার মানুষ তাঁকে  অনেক ভালোবাসে। সব সময়ই  আমাদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করছে। আমি তাহার সাফল্য কামনা করছি। সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ হাজী আং করিম আনোয়ার বলেন, ময়নুল ইসলাম রিপন এই এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি -তাহার বাবা, পরিবার এই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে একটি সুদীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন। ময়নুল এই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আমাদের সকলের পরামর্শক্রমে কাজ করছেন। আগামী দিনে ময়নুল এই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বলিষ্ট ভুমিকা পালন করবেন। জন প্রতিনিধি হিসেবে যা করেছে তা নজর কড়ার মত। বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আবুল ফজল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হক চৌধুরী খসরু বলেন, রিপন ইসলাম ময়নুল স্বল্প সময়ে অনেক পরিচিত একটি নাম- এই এলাকার যুব সমাজ, ইমাম, শিক্ষক, প্রবীন মুরব্বী সবাই রিপন ইসলাম ময়নুল-কে চেনেন স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। একজন জন প্রতিনিধি হিসেবে তার অর্জন অনেক। সে তার নির্বাচনী এলাকার পরিধি ছেড়ে অত্র পশ্চিম এলাকা  তথা পতনঊষার ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি বলিষ্ট ভুমিকা পালন করছে। তা ছাড়াও তাদের পারিবারিক ট্রাস্ট এর একজন ট্রাস্টই হিসেবে আমি বলবো তাদের এই সব মানবিক কার্যক্রম সমাজের সর্বস্তরে  প্রসংশিত। নোয়াগাঁও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো.ইউনুছ মিয়া বলেন, ময়নুল আমাদের এলাকার অহংকার। এই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে তার চিন্তা চেতনা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে সরকারি ও নিজ উদ্যোগে এই এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে কাজ হয়েছে। এই এলাকার প্রাচীন খেলার মাট বেলনী মাঠের সংস্কার হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক সমাজ উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে রিপন। আগামী দিনে তার নেতৃত্বে এই এলাকার জনগন সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। সে দলীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যা বরাদ্দ পেয়েছেন, তা যথাযথভাবে মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। আর এই জন্যই এই এলাকার ছাত্র, যুব সমাজ থেকে শুরু করে  সর্ব পরিসরের মানুষ থাকে স্নেহ করে, ভালোবাসে, সম্মান করে। এই ওয়ার্ডে মুক্তিযুদ্ধের পর কোন মেম্বার রিপন ইসলাম ময়নুলের মতো কাজ করতে পারেনি। রাজদিঘীর পারবাজারের হোমিও প্যাথিক ডাক্তার রাকেশ মোহান্ত বলেন, জনাব আব্দুন নূর মাস্টার সাহেব পতনঊষার তথা কমলগঞ্জর কৃতি সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, একজন দক্ষ সালিশ বিচারক দাতা। একটি সুদীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আব্দুন নূর মাস্টার ও তিনির পরিবারের সদস্যেদের ভুমিকা প্রসংসনীয় । ধর্ম, বর্ণ, ধনী, গরিব সকলের কাছে তিনি সমাদৃত। তার ছেলেরা ও দেশ বিদেশে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত এবং এলাকা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সামাজিক  অবস্থান অনেক  শক্ত যা নজর কাড়ার মত। রিপন ইসলাম ময়নুল পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-অত্যন্ত ভদ্র নম্র ও পরোপকারী সম্ভাবনাময়ী -এই এলাকার সকলের প্রিয়। যুব সমাজ ও এই এলাকার সকলের পরামর্শে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন যা অত্যন্ত বিরল আজকাল। বৃন্দাবনপুর পালিতকোনা গ্রামের শচিন্দ্র দেবনাথ বলেন, রিপন ইসলাম ময়নুল ২নং পতনঊষার ইউনিয়নের এক আলোকিত নাম।
জনকল্যাণে তিনি ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থান দখল করে নিয়েছেন । নিজের ১নং ওয়ার্ড ছাড়াও তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন তা সত্যিই প্রশসংনীয় উদ্যোগে। পারিবারীক ভাবে প্রতিষ্ঠিত গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আশ্রয় স্থল আং নূর-নূরজাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে রিপন ইসলাম ময়নুল এই এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। পতনঊষার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল আহাদ  বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান রিপন ইসলাম ময়নুল এলাকার রাস্তাঘাট সহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। আগামীতে বড় পরিসরে (চেয়ারম্যান) প্রতিদন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলে এলাকাবাসী দল, মত নির্বিশেষে পাশে থাকবে। এছাড়া তার পারিবারীক ঐতিহ্যও খুব ভাল।
সরকারের পাশাপাশি পারিবারীক ভাবে অনেক গরীব মানুষের সুখ-দু:খের সাথী হিসেবে কাজ করছেন রিপন। নোয়াগাঁও গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সহিদ বলেন, রিপন ইসলাম ময়নুল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত প্রাণ। যোগ্য পিতার যোগ্যসন্তানদের একজন তিনি।
প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে বিগত ৫ বছরে ইউনিয়ন পরিষদ এর বরাদ্দ ছাড়াও এলাকার মাটি-মানুষের প্রিয় নেতা সাবেক সফল চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি সাহেবের বিশেষ বরাদ্দ থেকে অনুদান এনে ১নং ওয়ার্ড এর পাশাপাশি পতনঊষার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান কাজ করেছেন। কোন দিন তার বিরুদ্ধে কোন র্দুর্নীতির অভিযোগ নেই। সে
অত্যন্ত বড় মানের লোক। ইউনিয়নের সকল মেম্বার থেকে রিপন আলাদা স্থান করে নিয়েছেন। পতনঊষার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সভাপতি আছ্কন মিয়া বলেন, মেম্বার রিপন ইসলাম ময়নুল সম্পর্কে কি বলবো? বলতে গেলে শেষ হবে না। সে আমার ছোট ভাই তাকে নিয়ে শুধু আমি নই এই এলাকার বেশির ভাগ মানুষের অনেক স্বপ্ন। সে জানে মানুষের সাথে কিভাবে চলতে হয়, মানুষের সাথে কিভাবে সু-সম্পর্ক রাখতে হয়। সে অনেক উন্নয়ন কাজ করেছে ইউনিয়ন পরিষদ ও আমাদের দলের নেতা জননেতা উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপির মাধ্যমে। যা পেয়েছে বিলিয়ে দিয়েছে এই এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে। এখানেই এলাকাবাসীর স্বার্থকতা যা চিন্তা করেছিলাম তাই-ই হয়েছে  তাই করেছে।
পল্লী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিরা একটি বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। যারা এ দায়িত্ব পালন করছেন তাদের মধ্যে  সততা নিষ্টা একাগ্রতা সর্বোপরি দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তা বলার অবকাশ রাখে না। রিপন ইসলাম ময়নুল সম্পর্কে এলাকার সমাজিক সংস্কৃতিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আমার ধারণা একটু বদলে গেছে। আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাই- ই ছিল আজকের প্রাসঙ্গিক আলোচনা।

সৌজন্যঃ কমলকুড়ি ডট কম

739total visits,1visits today

About Author

Leave A Reply